ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬ , ৩০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ই-পেপার
সংবাদ শিরোনাম
নিবন্ধন সনদবিহীন শিক্ষক নিয়োগে এনটিআরসিএ’র কড়া বার্তা প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগে প্রশ্নফাঁসে তোলপাড় শেয়ারবাজার গতিহীন দ্বিগুণ দামেও মিলছে না গ্যাস সিলিন্ডার বাংলাদেশ সংবাদপত্র কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি মতিউর মহাসচিব খায়রুল নির্বাচিত ঢাকায় নতুন মার্কিন দূত মব সৃষ্টি করে জমি দখলের চেষ্টা সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে রক্ষা কক্সবাজার সীমান্ত এলাকায় মাইন বিস্ফোরণে যুবক আহত, সড়ক অবরোধ দিনাজপুরে নদী থেকে ২ যুবকের লাশ উদ্ধার স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নির্বাচন থেকে বাদ দিতে মাঠপর্যায়ে কাজ করা হচ্ছে নির্বাচনি জরিপে বিএনপি জামায়াতের হাড্ডাহাডি লড়াইয়ের আভাস রাজস্ব সংগ্রহে এনবিআরের চ্যালেঞ্জ আদালত প্রাঙ্গণে পলককে ডিম নিক্ষেপ ইনকিলাব মঞ্চের ফরিদপুরে শ্রমিকবাহী পিকআপে ট্রেনের ধাক্কায় দুই ভাইসহ নিহত ৩ শ্যামনগরে আমন ধানের বাম্পার ফলনেও হাসি নেই কৃষকের মুখে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা বাতিলসহ ৫ দফা দাবি ছাত্র অধিকার পরিষদের ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করতেই হবে-রেজাউল করীম হলফনামায় ‘অপ্রদর্শিত’ সম্পদের মালিকদের শাসক হিসেবে চান না দুদক চেয়ারম্যান কোনো দলকে বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে না সরকার-প্রেস সচিব ভারতের সঙ্গে ব্যবসায় কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি-বাণিজ্য উপদেষ্টা
রমজানের ভোগ্যপণ্য

ডাল-ছোলার দাম কম বাড়ছে তেল-চিনির

  • আপলোড সময় : ১১-০১-২০২৬ ০৬:৪৬:৩৩ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১১-০১-২০২৬ ০৬:৪৬:৩৩ অপরাহ্ন
ডাল-ছোলার দাম কম বাড়ছে তেল-চিনির
মো. মঞ্জুর মোল্লা
রমজান মাস সামনে রেখে ভোগ্যপণ্যের বাজারে দাম ওঠানামা শুরু হয়েছে। রোজায় সবচেয়ে বেশি চাহিদা থাকা ডালজাতীয় পণ্যের দাম এবার কম। বাড়ছে ভোজ্যতেল ও চিনির দাম। ব্যবসায়ীরা বলছেন, মজুতের পাশাপাশি আমদানি বেশি হওয়ায় ছোলা, মটর, অস্ট্রেলিয়ান মসুর ডালের দাম কম রয়েছে। রমজানে এসব পণ্যের দাম বাড়ার সুযোগ না থাকলেও মিলার সিন্ডিকেটের কারণে চিনি ও ভোজ্যতেলের দাম বাড়ছে। তবে মিলাররা বলছেন, এলসি না হওয়ায় কারখানায় কাঁচামালের মজুত না থাকায় বাজারে চিনির সরবরাহ কমেছে।
ভোক্তাদের সংগঠন কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) বলছে, কতিপয় ব্যবসায়ী জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে বাজার অস্থির করার চেষ্টা করছেন। রমজানের আগে প্রশাসনের নজরদারি বাড়াতে হবে। প্রতিবছর দেশে রমজান সামনে রেখে ভোগ্যপণ্যের চাহিদা বাড়ে। রোজার সময় ইফতারের অন্যতম অনুষঙ্গ ছোলা। ধনী-গরিব সবার ইফতারে ছোলা থাকে। পেঁয়াজু কিংবা চটপটির মতো খাবার তৈরিতে মটর ডালের ব্যবহারও বাড়ে। পাশাপাশি রাতের খাবারে মসুর ডালও রাখেন অনেক রোজাদার। যে কারণে এসব খাদ্যপণ্যের চাহিদাও বাড়ে। বিগত বছরগুলোতে রমজানের আগে পণ্যের দাম বাড়লেও কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে এবারের চিত্র ভিন্ন। বিশেষ করে ডালজাতীয় খাবারের মধ্যে ছোলা, মসুর, মটর ডালের দাম গত বছরের চেয়ে কম থাকলেও বাড়তে শুরু করেছে চিনি ও ভোজ্যতেলের দাম। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাজারে ডালজাতীয় সব পণ্যই আমদানি হয়। কানাডা ও ইউক্রেন থেকে আসে মটর ডাল। মটরকে অনেকে অ্যাংকর হিসেবেই চেনে। খাতুনগঞ্জের বাজারে মটর ডাল বিক্রি হচ্ছে ৪৪ টাকা ৫০ পয়সা কেজিতে। এসব ডাল গত রমজানে ৬৫-৭০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল।
অস্ট্রেলিয়ান ছোলার পাশাপাশি ভারতীয় ছোলা দেশের বাজার ধরে রেখেছে। তবে অস্ট্রেলিয়ান ছোলার মান ভারতীয় ছোলার চেয়ে উন্নত দাবি ব্যবসায়ীদের। খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ান ভালো মানের ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৭৪-৭৫ টাকা কেজিতে। গত বছর একই ছোলা বিক্রি হয়েছিল ১০৫-১১০ টাকায়। আবার বাজারে অস্ট্রেলিয়ান মসুর ডালের দামও কমেছে। গত বছর যে মসুর ডাল ৯৫ টাকায় বিক্রি হয়েছিল এবার একই ডাল বিক্রি হচ্ছে ৭৩-৭৫ টাকা কেজিতে। তবে বাজারে ভারতীয় মসুর ডালের দাম অত্যধিক বেশি। গত বছর যে ডাল প্রতি কেজি ১১৫ টাকায় বিক্রি হতো, একই ডাল বৃহস্পতিবার বিক্রি হয়েছে ১৫৫ টাকায়।
চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ আড়তদার সাধারণ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মহিউদ্দিন বলেন, রোজায় ডালজাতীয় পণ্যের চাহিদা বেশি থাকে। বিশেষ করে ছোলা, মসুরের চাহিদা। এবার মটর, মসুর, ছোলার যথেষ্ট মজুত রয়েছে। নতুন করে আমদানিও হচ্ছে। যে কারণে দাম কম। রমজানের আগে আর দাম বাড়ার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, ‘চলতি অর্থবছরে প্রত্যেক আমদানিকৃত ভোগ্যপণ্যে সরকার ২ শতাংশ হিসেবে সম্পূরক শুল্ক বসিয়েছে। এতে প্রতি কেজি পণ্যের দামও ২ টাকা বেড়েছে। এই শুল্ক না থাকলে দাম আরও কম হতো। এ ব্যবসায়ী বলেন, মসুর গত বছর বেশি আমদানি হয়েছিল। গত বছরের মসুর এখনো মজুত রয়েছে। বাজারে অস্ট্র্রেলিয়ান মোটা মসুরের দাম একেবারে কমে গেছে। বর্তমানে পাইকারিতে অস্ট্রেলিয়ান মসুর কেজিপ্রতি ৭৩ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত বছর রমজানের সময় এ মসুর ৯৫ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। তবে ভারতীয় চিকন মসুরের দাম বেশি। গত বছরের রমজানের সময় কেজিপ্রতি ১১৫ টাকা ছিল, এবার বিক্রি হচ্ছে ১৫৫ টাকায়। তাছাড়া মটর ডাল বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকায়। গত বছর একই ডালের দাম ছিল ৬৫-৭০ টাকা। কয়েক সপ্তাহ ধরে খাতুনগঞ্জের বাজারে চিনির দাম বেড়েছে। মিলারদের দাবি কয়েকটি কারখানায় ‘র’ চিনি না থাকায় পরিশোধন সম্ভব হচ্ছে না। বৃহস্পতিবার খাতুনগঞ্জে রেডি চিনি বিক্রি হয়েছে প্রতি মণ ৩৫শ ৪০ টাকায়। এক সপ্তাহ আগেও প্রতি মণ চিনি বিক্রি হয়েছে ৩৪শ ১০ টাকায়। নভেম্বর মাসে একই চিনির দাম ছিল ৩২শ ১০ টাকা।
এক মাসের ব্যবধানে বাড়ছে সয়াবিন তেলের দাম। গৃহস্থালি পর্যায়ে সয়াবিন তেলের চাহিদাই বেশি থাকে। খাতুনগঞ্জে ডিসেম্বর মাসে সয়াবিন তেল বিক্রি হয়েছিল প্রতি মণ ৬ হাজার ৮শ টাকায়। মাসের ব্যবধানে বৃহস্পতিবার একই সয়াবিন তেলের দাম প্রতি মণে ৭০-৮০ টাকা বেড়েছে। বৃহস্পতিবার টিকে গ্রুপের বে-ফিশিং ৬ হাজার ৮৭০ টাকা, আবুল খায়ের গ্রুপের বাটারফ্লাই ৬ হাজার ৮৮০ টাকা এবং সিটি সয়াবিন বিক্রি হয়েছে ৬ হাজার ৯১০ টাকায়। খাতুনগঞ্জের মেসার্স এমকে ট্রেডিংয়ের মালিক রফিকুল আলম বলেন, মূলত দুটি মিল থেকে চিনি না আসার কারণে বাজারে দাম বাড়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। মিলগুলো চালু হলে চিনির বাজার স্বাভাবিক হয়ে আসবে। তবে শীতকালে পাম অয়েল ঘোলাটে হয়ে থাকে। যে কারণে সয়াবিন তেলের চাহিদা বেড়ে যায়। তবে সয়াবিন তেলের দাম দুই সপ্তাহ ধরে স্থিতিশীল।
সরকারি প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার, শুক্রবার ও গতকাল শনিবার খুচরা বাজারে খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১৭৪-১৮৫ টাকায়। গত বছর খোলা সয়াবিন তেলের দাম কম ছিল। গত বছর একই সময়ে বিক্রি হয়েছিল ১৭০-১৮০ টাকায়। গত বছর চিনির দাম ছিল ৯০-১০০ টাকা। বৃহস্পতিবার খুচরা বাজারে চিনি বিক্রি হয়েছে ১০০-১১৫ টাকায়। তবে বৃহস্পতিবার ছোলার দাম ছিল মানভেদে ৮০-৯৫ টাকা। একই ছোলা গত বছর একই সময়ে ছিল ৯৫-১১০ টাকা। একইভাবে মটর ডাল বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬৫ টাকা কেজিতে। গত বছর একই মটরের দাম ছিল ৫০-৭৫ টাকা। মাঝারি দানার মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ১১০-১৩০ টাকা। গত বছর বিক্রি হয়েছিল ১১৫-১৫০ টাকায়।
রমজান সামনে রেখে ভোগ্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে বাজারে আগেভাবে তদারকির দাবি জানিয়েছেন ক্যাবের বিভাগীয় সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন। তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে প্রশাসন ব্যস্ত থাকার সুযোগ নিচ্ছে কিছু অতি মুনাফালোভী ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট। অনেকে রমজানের আগে বাজার অস্থির করার চেষ্টায় থাকেন। প্রশাসনের উচিত আগেভাবে বাজার মনিটরিংয়ে জোর দেওয়া। এতে রমজানে সাধারণ মানুষ সুফল পাবে।
কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মহিউদ্দিন বলেন, বাজারে চিনির দাম বাড়ছে। চিনির বাজার বিশেষ করে পাঁচটি মিলের হাতে বন্দি। এতে সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। সরকার সাদা চিনি আমদানির সুযোগ দিলে মিলার সিন্ডিকেট ভেঙে যেত।
চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের ভোগ্যপণ্য ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান আরএম এন্টারপ্রাইজের মালিক শাহেদ উল আলম বলেন, বাজারে দুটি বড় মিল থেকে চিনি আসছে না। এর মধ্যে সিটি গ্রুপের চিনিও আসছে না। তাদের কারখানায় আদৌ চিনি আছে কি না তাও জানা যাচ্ছে না। তবে তাদের ইমপোর্ট পাইপলাইনে চিনি আসছে। আশা করছি, সপ্তাহ দুয়েকের মধ্যে চিনির বাজার স্বাভাবিক হয়ে আসবে। চিনি ও ভোজ্যতেলের বাজারে বড় অংশগ্রহণ রয়েছে শীর্ষ ব্যবসায়ী গোষ্ঠী সিটি গ্রুপের। বর্তমানে বাজারে সিটি গ্রুপের চিনি সরবরাহ নেই। এ বিষয়ে সিটি গ্রুপ চট্টগ্রামের সেলস হেড প্রদীপ করণ বলেন, আমাদের স্টকে চিনি নেই। আশা করা হচ্ছে আগামী সপ্তাহে চিনি আসবে। তখন বাজারে সরবরাহ দিতে পারবো।
 

নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata

কমেন্ট বক্স
প্রতিবেদকের তথ্য